রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তেঁতুলিয়ায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  তেঁতুলিয়ায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মাঝে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা বন্দরে মা ও শিশু কিশোরীরা সঠিক সেবাগুলো পাবে – আঞ্জুমান আরা মদনগঞ্জ দারুস সালাম মডেল মাদ্রাসা’র অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ  পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন  বন্দরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন মাটির নিচে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন  বন্দর থানা সাংবাদিক ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ  রূপগঞ্জে জিন তাড়ানোর নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন

ঐতিহ্যবাহী ঝলমলিয়া হাটের খাজনা নিয়ে অভিযোগ

গ্রামীন কণ্ঠ ডেস্ক / ২১৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝলমলিয়া হাটের বর্তমানে খাজনা আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, হাটে নির্ধারিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঝলমলিয়া হাট শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাচীনকালে যখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল না, তখন মুসাখাঁ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই হাটের বাণিজ্যিক গুরুত্ব। নদীপথে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকাযোগে পাট, গুড়, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এখানে আনা হতো এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা সরবরাহ করা হতো। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে পুঠিয়া রাজবাড়ির জমিদাররা প্রজাদের সুবিধা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন হাট-বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঝলমলিয়া হাটও সেই ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। সময়ের পরিবর্তনে মুসাখাঁ নদীর নাব্যতা কমে গেলেও হাটটির গুরুত্ব আজও বহন করে অটুট রয়েছে।
বর্তমানে ঝলমলিয়া হাট পুঠিয়া অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ততম হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর বিপুল অর্থের বিনিময়ে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়।
তবে সাম্প্রতি সময়ে খাজনা আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ উঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে খাজনা আদায় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হাটের ঐতিহ্য, সুনাম এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

দেশের ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার, নদী ও ঐতিহাসিক স্থাপনা শুধু স্থানীয় সম্পদ নয়, এগুলো জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। তাই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণসহ সকলের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য বলে মনে করেন স্থানীয় জনগণ।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খাজনা সংক্রান্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এবং শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাট তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এ ক্যাটাগরীর আরো খবর..