মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কামরুজ্জামান এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন- নুর মোহাম্মদ রূপগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুইটি শুটার পাইপগান উদ্ধার রূপগঞ্জের ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলে দুর্ধর্ষ চুরি রূপগঞ্জে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নবনির্বাচিত এমপি কামরুলকে অভিনন্দন ব্যবসায়ী- জুসেক মিয়া ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, নির্যাতনের প্রতিবাদ ও মানববন্ধন ধানের শীষের প্রার্থী কামরুলের লিফলেট বিতরণ করলেন- দিলোয়ার হোসাইন রূপগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রূপগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ ও গণমিছিলে মানুষের ঢল ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির

ধর্ষণকারী রোকনকে গ্রেফতার, প্রশংসার জোয়ারে ফতুল্লা থানা পুলিশ

গ্রামীন কণ্ঠ ডেস্ক / ২৯৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ক্রাইম রিপোর্টার: ফতুল্লার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম’র নেতৃত্বে ও তদন্তকর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এর নির্দেশনায় সাব-ইন্সপেক্টর আরাফাতের বিশেষ অভিযানে মাদারীপুর শিবচর থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ধর্ষণ মামলার আসামি লম্পট, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের মূল হোতা, জঘন্য ধর্ষণকারী রোকনকে গ্রেফতারের ঘটনায় প্রশংসার জোয়ারে ফতুল্লা থানা পুলিশ।

গত (২৭ আগস্ট) রিতু আক্তার (১৮), ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে মামলার এজাহারে রিতু আক্তার (১৮), উল্লেখ করেন, আমি রিতু আক্তার (১৮), পিতা-বাতেন মিয়া, মাতা-হোসনেয়ারা, সাং হরিহরদী, থানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদী এ/পি সাং- গোদনাইল চৌধুরীবাড়ী মোস্তফার বাড়ী খালা রুবি বেগম এর ভাড়াটিয়া বাসা, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ। সঙ্গীয় আমার বন্ধু হাবিবুর রহমান (২৮), পিতাঃ-মো. সেলিম সাং জয়নুদ্দিন ঢালিকান্দি, থানা-জাজিরা, জেলা-শরিয়তপুর ‎এ/পি সাং-গোদনাইল ধনকুন্ডা উত্তর পাড়া, (আমজাদ মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, কে সহ থানায় হাজির হইয়া আসামী ১। রোকন (৩৫), পিতা- আ. মালেক সাং-দক্ষিন কায়েমপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এর বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, আমি ইতিপুর্বে লেখাপড়া করতাম। আমার পিতা- মাতা মারা যাওয়ায় অনুমান ৩ বৎসর পূর্বে আমার খালা রুবি বেগমের সাথে উপরোক্ত ভাড়াটিয়া বাসায় থাকি। অভিভাবক হিসাবে সে আমাকে দেখাশুনা করে। জীবিকার তাগিদে কিছু দিন গার্মেন্টেসে চাকুরী করি। অনুমান ২/৩ মাস চাকুরী করার পর চাকুরী ছেড়ে দিয়া খালার বাসায় থাকি। ২৬/০৮/২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ৯ ঘটিকার সময় আমি ও আমার বন্ধু হাবিবুর ‎রহমান সহ ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ী যোগে চাষাড়া থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ২নং ঢাকেশ্বরী যাওয়ার সময় রাত্র ‎অনুমান সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় চাঁনমারী নতুন রাস্তার মুখে পৌঁছাইলে উক্ত আসামী একটি বাইক যোগে আমাদের ‎বহন কৃত মিশুক গাড়ীর সামনে আসিয়া দাড়ায়। আসামী আমার বন্ধু হাবিবুর রহমান এর হাতে থাকা মোবাইল আমার নিকট দিতে বলে। সাথে সাথে আমার বন্ধু তার হাতের মোবাইল আমার কাছে দেয়। এরপর উক্ত আসামী আমার বন্ধুকে মিশুক গাড়ী হতে জোর পূর্বক নামিয়ে দেয় এবং আমাকে মিশুক নিয়া চলিয়া যাইতে বলে। আমি মিশুক নিয়ে একটু সামনে যাওয়ার পর সে বাইক চালাইয়া মিশুক গাড়ীর সামনে ব্যারিকেট দিয়া আমার হাত থেকে মোবাইল নিয়া নেয় এবং বিভিন্ন ভাবে ফুসলাইয়া আমাকে তাহার বাইকে তুলিয়া ফতুল্লা থানাধীন সন্তাপুর জেলা ‎পরিষদের সামনে আসামীর বাড়ীর সামনে আসিয়া আমাকে দাঁড় করাইয়া বাড়ীর মধ্যে যায় এবং তার বাইক টি ‎জমা রাখিয়া বাসার গ্যারেজ থেকে একটি কালো গ্লাস লাগানো প্রাইভেট কার গাড়ী বাহির করিয়া আমাকে উক্ত গাড়ীতে ‎উঠতে বলে। আমি গাড়ীতে উঠতে রাজী না হওয়ায় সে আমাকে প্রান নাশের হুমকি দেওয়ায় ভয়ে আমি গাড়ীর ‎পিছনে উঠি। একই তারিখ রাত্র অনুমান ১০.৪৫ ঘটিকার সময় আসামী গাড়ী নিয়া লিংক রোডে উঠিয়া ফতুল্লা মডের ‎থানাধীন পশ্চিম লামাপাড়াস্থ লিংক রোডে অবস্থিত একমি বিল্ডিংয়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় গাড়ী থামাইয়া সে পরসময় সামনের সিট হতে পিছনের সিটে আসিয়া আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়া আমার পরনের সেলোয়ার খুলিয়া ‎ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ধর্ষন শেষে আসামী আমার উলঙ্গ ছবি মোবাইলে ধারন করে এবং বলে যে ‎যখন ফোন দিব তখন আসবি নচেৎ তোর উলঙ্গ ছবি লোকজন কে দেখাইয়া মান সম্মান ক্ষুন্ন করিব। এক পর্যায়ে আসামী আমাকে গাড়ী যোগে গোদনাইল নিয়া রাস্তায় নামাইয়া দিয়া আমার কাছে থাকা মোবাইল টি ফেরত দেয়। আমার বন্ধু হাবিবুর রহমান এর মোবাইল টি রাখিয়া দেয়। এরপর আমি ভয়ে কাহারো নিকট ঘটনা না জানাইয়া গোপনে আসামীর ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া পরবর্তীতে আত্মীয় স্বজনদের জানাইয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব ‎হইল। অতএব, উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মর্জি হয়।

মামলা দায়ের হওয়ার সাথে সাথেই ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলামের আদেশে, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ওসি) আনোয়ার হোসেনের নির্দেশনায়।

মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা  সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ইয়াসিন আরাফাত মামলার বিবাদী ধর্ষণকারী রোকনের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, সংগ্রহের জন্য মাঠ পর্যায়ের তদন্ত নামে।

পুলিশের পাশাপাশি মামলার বিবাদী ধর্ষণকারী রোকনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমও অনুসন্ধান শুরু করা অবস্থায় জানতে পারে ধর্ষণকারী রোকনের অপরাধ জগতের ভয়ংকর তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলা আসামি রোকন ধর্ষণকারী লম্পট দূর চরিত্রহীন শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,ছিনতাইকারি গ্রুপের প্রধান হোতা।

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা, ফতুল্লা থানার কয়েকপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক ধর্ষণকারী, পূর্বে বিয়ে করা থাকা শর্তেও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া, কাউকে না জানিয়ে নাম মাত্রায় বিয়ে করে ৫-৬টা, পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর করা মামলার কারণে ধর্ষণকারী লম্পট দূর চরিত্রহীন রোকনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয় প্রতারণার শিকার নারীদের সাথে।

তারপরও থেমে থাকেনি ধর্ষণকারী লম্পট দূশচরিত্রহীন রোকন, বিভিন্ন মেয়েদের সাথে ও বিশেষ করে প্রবাসীদের স্ত্রী কিংবা ডিভোর্সি নারীদের টার্গেট করে, প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম কৌশল তৈরি করে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার অজুহাতসহ নানা প্রকার লোভ-লালসার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পড়ে নিজের শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে এবং নিজের স্বার্থ হাসিল শেষে মেয়ের বিভিন্ন প্রকার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে রাখে, পরবর্তীতে তাদের সাথে কোন প্রকার খোঁজখবর না নেয়া মিথ্যা আশ্বাস দেয়া একপর্যায়ে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারণার শিকার নারীদের সাথে।

আবার এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার মোবাইলে ধারণ করা বিভিন্ন নারীদের অশ্লীল ভিডিওর ভয় দেখিয়ে প্রতারণার শিকার নিরুপায় অসহায় নারীদের কে দিয়ে বিভিন্ন পুরুষদের কাছে পাঠিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে।

আরো জানা যায়, রোকনের পালিত কিশোর গ্যাঙ গ্রুপের প্রধান হোতা ও অপরাধের জগতের মূল পরিকল্পনাকারী’ নিজের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জেলা থেকে অপরাধ জগতের সাথে জড়িত থাকা যুবকদের এনে কিশোর গ্যাঙ দল তৈরি করে তার দলবল নিয়ে  বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মমকাণ্ড, চাঁদাবাজি,ছিনতাই ও বিভিন্ন অপকর্ম করতো।

পরবর্তীতে ফতুল্লা মডেল থানা বিশেষ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে, ধর্ষণ মামলার আসামি রোকনকে মাদারীপুর শিবচর থেকে ফতুল্লা থানা পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যম কে বলেন, ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আমরা তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি কঠোর ব্যবস্থা সহ, অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে নজরদারি বাড়ানো এবং তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য ফতুল্লা থানা পুলিশ কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এ ক্যাটাগরীর আরো খবর..