নবীনগর ও পূর্ব গোপালনগর এলাকায় চলমান ড্রেন লাইন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কাজ চললেও শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নকশা বহির্ভূত কাজ এবং তদারকির অভাবে প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, ড্রেন লাইনের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহার করা হয়েছে। ডালাই কাজে নিম্নমানের সিমেন্ট, সিলেকশন বালু এবং অপর্যাপ্ত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, এসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান শেখের ছোট ভাই শাহ আলী শেখের হাতে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, নবীনগর ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জলিল শেখ (জলিল মেম্বার) একাধিক বৈষম্যহত্যাকারী মামলার আসামী। তাঁর নিজস্ব মার্কেটের সামনে ড্রেন লাইন নকশা অনুযায়ী ৪ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৩ ফুট প্রস্থের ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে এলাকায় বিরোধ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলিল শেখ ও শাহ আলী শেখের প্রভাবের কারণে কেউ অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যাঁরা কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে নকশা অনুযায়ী মানসম্মত ও দুর্নীতিমুক্তভাবে ড্রেন লাই ন নির্মাণ নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সাফ কন্ট্রাকটর ইউসুফ বলেন, আমাদের কাজটা হলো আউট টু আউট ৪ ফুট ধরা। অফিসের কাগজ-কলম অনুযায়ী ৪ ফুটের কাজই করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে এনায়েতনগর ইউনিয়নের নবীনগর ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জলিল শেখ বলেন, কাগজ অনুযায়ী ৪ ফুট পুরো ড্রেনটি, সাইড ওয়ালটি ৮ ইঞ্চি, মোড়টি মাইর খাওয়াইছে এটি আমি নিজে মেপে দেখছি। এনায়েতনগর ৩নং ওয়ার্ডে পুরো ১০০ ভাগ কাজ বুঝে নিয়েছি আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ড্রেন লাইন নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। গতকাল আমরা সকলে বইসা সমাধান করে দিছি। এখানে কন্ট্রাকটর-ইঞ্জিনিয়ার সবাইকে ডাকাইছি এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি কেন ভুল হয়েছে, পরে তারা এ বিষয়ে ভুল স্বীকার করে বলে যে মোড়ের কারণে একটু ভুল হয়েছে পরবর্তীতে আর হবে না। এলাকায় প্রভাবের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এটা সঠিক না। বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, এ মামলাটি আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে, ওই যে মামলার বাদী মিলন বলছে ভুল হয়েছে, পরবর্তীতে মামলার স্বাক্ষী দেওয়ার সময় আমার নামটি কাটিয়ে দিবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...