সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা শীতলক্ষ্যার ঘাটে ঘাটে আবর্জনার স্তুপ-পঁচা-দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত পরিবেশ ঢাকায় অভিযানে: পঞ্চগড়ের কুখ্যাত আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের রাসেলসহ গ্রেফতার-৩ তেঁতুলিয়ায় বড় ভাইয়ের চা বাগানে ছোট ভাইয়ের বিষ প্রয়োগের অভিযোগ রূপগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী-পুরুষের মরদেহ উদ্ধার বন্দর উপজেলা সিনিয়র সিটিজেনস ফোরামের সভাপতি আজাদ-সাধারণ সম্পাদক মুকুল সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খানের মৃত্যুতে গভীর শোক কারিগরী শিক্ষা নিবো বেকারমুক্ত দেশ গড়বো বন্দরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ছয় দিনের জন্য পোশাক তৈরি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ- পুরুষ শূন্য বরুনা

তেঁতুলিয়ায় বড় ভাইয়ের চা বাগানে ছোট ভাইয়ের বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

গ্রামীন কণ্ঠ ডেস্ক / ২৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন

জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়া(পঞ্চগড়) সংবাদদাতা :
পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া শালবাহান ইউনিয়নের পেদিয়াগজ গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের চা বাগানে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই আবুবক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী লুৎফা বেগমের মালিকানাধীন প্রায় ২৯ শতক জমিতে চা বাগান রয়েছে। যা তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা এই বাগানটিই এখন ধ্বংসের মুখে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হান্নানের সঙ্গে তার ছোট ভাই আবুবক্কর সিদ্দিকের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত আবুবক্কর সিদ্দিক রাতের আঁধারে বাগানে প্রবেশ করে বিষাক্ত আগাছানাশক বা ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই চা গাছগুলোর পাতা হলদে হয়ে যায় এবং পরে তামাটে রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যেতে থাকে। এক সময় সবুজে ঘেরা বাগানটি এখন সম্পূর্ণরূপে বিবর্ণ ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছই প্রায় শুকনো অবস্থায় রয়েছে। যেগুলো এখনো টিকে আছে সেগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থায় পুরো বাগান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে পড়েছেন পরিবারটি।

ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, নিজের কেনা জমি। সেই জমি দাবি করছে ছোট ভাই। কয়েকদিন আগে বাগান থেকে চা পাতা তুলে নেয়ার সময় আমি ধরে ফেললে তারা পালিয়ে যায়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে হিংসাত্মকভাবে গত ১১ মে ভোরে চা বাগানে বিস্ফোরক দ্রব্য কীটনাশক ঔষধ (রান্ডপ) প্রযোগ করে সমস্ত চা বাগান পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

“নিজের আপন ভাই হয়ে কীভাবে এমন নিষ্ঠুর কাজ করতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এ বাগানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত-০৪ (তেঁতুলিয়া) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

তার স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে, ধারদেনা করে এই বাগান করেছি। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে সরজমিনে আবু বক্কর সিদ্দিককে পাওয়া না গেলেও তার মা ফাতেমা উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ওয়ারিশান সূত্রে জমি। হান্নান যে দাগে চা বাগান দাবি করছে সেটা এ দাগ নয়। আর এ চা বাগান আমরা করেছি। বাগান দখলে রাখতে সে নিজেই তার বাগানে ঘাসমারা বিষ দিয়ে এখন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দোষ চাপাতে চাইছে। এটাতো হতে পারে না।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এ ক্যাটাগরীর আরো খবর..