নূর এ আজাদ:১ এপ্রিল বুধবার বেলা ১১ টায় বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে নবীগঞ্জ তিনগাও এলাকার হাসিব মাশরুম পল্লীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে “মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প” এর আওতায় স্পন ও মাশরুম উৎপাদন প্রদর্শনীর মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ এর উপ-পরিচালক
আ.জা.মু. আহসান শহীদ সরকার’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চল, অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা খান।
প্রধান অতিথি বলেন, মাশরুম মূলত এক ধরনের ছত্রাক হলেও বর্তমানে এটি সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে খুব কম চর্বি, ক্যালোরি ও সোডিয়াম থাকায় খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যকর খাবার বটে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মাশরুম নিয়মিত খেলে নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ মাশরুম খাওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষাও করে।
তিনি আরো বলেন, মাশরুমে স্বাভাবিকভাবেই সোডিয়াম কম থাকে, তাই এটি খাবারে লবণের প্রয়োজন কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। মাশরুম কম ক্যালোরি ও কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় এটি লাল মাংসের ভালো বিকল্প। অনেকে এলার্জিজনিত কারণে গরুর মাংস খেতে পারেন না, তাদের জন্য এই মাশরুমই হল গরুর মাংসের বিকল্প। সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে কিছু মাশরুমে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ বেড়ে যায়, যা হাড় মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত উপ- পরিচালক, উদ্ভিদ সংরক্ষন মোহাম্মদ জহিরুল হক, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শষ্য মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার, বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার বলেন, আপনারা স্বল্প পুঁজি নিয়েই মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। দেশের আবহাওয়া উপযোগী এ ফসল আবাদ ও উৎপাদন যতই বাড়ান হোক, তাতে অন্য কোন ফসল আবাদ হ্রাসের সম্ভবনা নেই। এমনকি ভূমিহীন মানুষও ঘরে বসে এ ফসল আবাদ ও উৎপাদন করতে পারেন। মাশরুম আবাদে কোন উর্বর জমির প্রয়োজন হয়না। তাই আপনারা চেষ্টা করলে ভালো একজন উদ্যোক্তা হতে পারেন, সরকার ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা দেখতে চায়। মাশরুম ব্যবহারের উপকারিতা জানলেই মানুষ মাশরুমের প্রতি আকৃষ্ট হবে। বিশেষ কিছু মাশরুম শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত মাশরুম খেলে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং অনেক প্রকার সমস্যার ঝুঁকি কমতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন, মাঠ দিবসের মাধ্যেমে মাশরুম উৎপাদকদের জন্য অবহিতকরণ সভায় জাতীয় মাশরুম মেলা করা এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণসহ তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। উদ্যোক্তাদের বলি আমাকে যদি আপনাদের কোন প্রয়োজন পড়ে আমাকে বলবেন আমি আপনাদের সর্বাত্মক সাহায্য করতে চেষ্টা করবো।
মো. হাসিব, সানু আক্তার, মোসা. লায়লা আক্তারের মতো মাশরুম উদ্যোক্তারা বলেন, আগে অনেক ব্যবসা করেও সফল হতে পারেনি। অবশেষে আমরা মাশরুম চাষ করে এখন সফল হচ্ছি। আমরা কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে মাশরুম চাষের মাত্র তিন মাসের মাথায় লাভের মুখ দেখছি। আপনারা আগে মাশরুম খাবেন, তারপর যদি ভালো মনে করেন, তাহলে মাশরুম চাষ করবেন। এটায় অবশ্যই লাভবান হবেন। এতে বেশি পুঁজি বা বিনিয়োগ লাগেনা। অল্প পুজিতে অনেক লাভ। ব্যপক প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে মাশরুমকে দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রাখা সহ এর বিপনন ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন অংশগ্রহনকারীগন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...