তানজিলা আক্তার রুবি, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝাঞ্জাইল এলাকায় সোমেশ্বরী নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
ইউসুফ খান নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ধসে পড়ছে। ফলে ফসলি জমি হারিয়ে জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নদীভাঙ্গন রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বছরের পর বছর চাষ করা জমি চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের উপস্থিতির পরও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ খান বলেন, নদী থেকে নয় বরং নিজের জায়গা বা চর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, দুর্গাপুরের উন্নয়নকাজে পাথর সংরক্ষণের জন্য জায়গা ভরাটের উদ্দেশ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই কাজ করা হচ্ছে। যদিও অনুমতির বিষয়ে কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তা দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, গত ১৬ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের কায়সার কামালের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করায় বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। প্রশাসন কি কার্যকারিতা হারাচ্ছে, নাকি প্রভাবশালীদের কাছে নতি স্বীকার করছে?
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...