মুরাদ মিয়া, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
তাহিরপুরে ৮ বছরের এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন সীমান্ত এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
৬ জুন শনিবার দুপুরে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সীমান্তবর্তী কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় শনিবার দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটির নানি জানান, শিশুটির বাবা ইতোপূর্বে মারা গেছেন এবং মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। শিশুটি থাকে তার নানার বাড়িতে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্তবর্তী গ্রামের দুই কিশোর শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে কলাগাঁও নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে চলে যায় ধর্ষণকারীরা।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে অভিযুক্তদের পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা পুলিশ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়ে স্থানীয় বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নানা বাড়িতে রেখে আসে। কিন্তু গত দুই দিন ধরে শিশুটির রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। শনিবার সকালে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে দুপুরের দিকে স্বজনরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোর্শেদ আলম সাদ্দাম বলেন, দু’দিন আগে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। ধর্ষণকারীদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আজ দুপুরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত দুই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...