শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জেলা গোয়েন্দার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার আটক- ১  জাম পারতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু তেঁতুলিয়ায় উফশী রোপা আমন প্রণোদনা কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ রূপগঞ্জে নিজ অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেন- শফিউল্লাহ মিলন কুড়িগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক, গণপিটুনি কুড়িগ্রামে ৩ লাখ ৩৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে অবস্থান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও তোবারক বিতরণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও তোবারক বিতরণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও তবারক বিতরণ

জুলাই আন্দোলনে নিহত সন্তানের অপেক্ষায় মা সেতারা বেগম 

মো. শামীম হোসাইন / ৭৪১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

পিরোজপুর প্রতিনিধি: মঠবাড়িয়ার ছেলে বাসচালক আবু জাফরের ফেরার অপেক্ষায় মা সেতারা বেগম। প্রায়ই স্বপ্নে দেখেন ছেলে ফিরে এসেছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেন তিনি। ছেলের ফিরে আসার অপেক্ষায় দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন মা।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর গোলাপবাগে আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন তিনি। ১৯ জুলাই রাতে গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়।

গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামে। পরিবারের ছোট ছেলে আবু জাফর বাবার বাড়িতে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। শ্যামলী পরিবহণের চালক ছিলেন তিনি।

জাফরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখনও ঘরের ভেতরে বৃদ্ধা মা সেতারা বেগম ছেলে হারানোর শোকে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বলেন, আবু জাফরের আয়েই সংসার চলত। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বসতবাড়িটি ছাড়া আর কোনো সম্পদও নেই। আমার ছেলের অপরাধ কী? কেন গুলিতে তার মরতে হলো?

মা’ সেতারা বেগম বলেন, আবু জাফরের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বেকার। মেজো ছেলে কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় এবং ছোট ছেলে স্থানীয় বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার মৃত্যুতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এই সরকার আমার সন্তান হত্যার বিচার করবে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। অন্তত মৃত্যুর আগে সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

জাফরের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় শ্যামলী পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে মঠবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পরদিন বিকালে তাকে ফোন করে বাস কাউন্টারে যেতে বলেন পরিবহণটির কর্মকর্তারা। ফোন পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। পরে রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকায় পৌঁছার পর পুলিশের ছোড়া গুলি এসে তার গলা ও বুকে বিদ্ধ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে সড়কের উপর লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের পথচারীরা উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

পথচারী এক নারীর কাছ থেকে মুঠোফোনে জাফরের মৃত্যুর খবর পান তার পরিবার।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শফিকুল আলম জানান, পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারকে সরকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এ ক্যাটাগরীর আরো খবর..