নূর এ আজাদ, ষ্টাফ রিপোর্টার: কৃষিই সমৃদ্ধি বন্দর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ১৮ মে সোমবার সকাল ১১ টায় বন্দর উপজেলা মিলনায়তনে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প পার্টনার কংগ্রেস’ আয়োজন করা হয়।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার’র সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হুমায়রা মহসিনা’র উপস্থাপনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ এর উপ-পরিচালক, আ.জা.মু.আহসান শহীদ সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার তাসলিমা আক্তার।
প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের জমি উর্বর করে তুলতে হবে, যেভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু কীটনাশক দিলেই হবে না, জৈব জাতীয় সার ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য তৈরি করতে হবে। পানির দিকে খুব খেয়াল রাখতে হবে, কালো পানিতে আমাদের এসব এলাকা ছেয়ে গেছে, এসব পানি নিরাপদ নয়, নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ঘাত সহনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ধান ব্যতীত দানাদার ফসলের মাঠ পরীক্ষা কার্যক্রম ও জাত উন্নয়ন চারাসহ অন্যান্য প্রপাগেটিং ম্যাটেরিয়ালসের কার্যকর বৃদ্ধি, ধান ব্যতীত দানাদার ফসল, ডাল, তেল, ফল ও সবজির আবাদ এলাকা বৃদ্ধি, ধানের জাত উন্নয়ন, বীজ উৎপাদন ও বিপণনে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সহ উচ্চফলনশীল ধানের জাতের আবাদ এলাকা বৃদ্ধি করে সুষম খাদ্য উৎপাদনে সক্ষমতার প্রমাণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এখন আর সনাতন কৃষি নেই, এখনকার কৃষি হচ্ছে সমৃদ্ধ কৃষি, আধুনিক কৃষি, প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি। আমাদের যারা কৃষক কৃষাণী আসেছেন তাহাদের এই আধুনিক পদ্ধতি শিখে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমাদের এই উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কিছু কৃষক আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। তাদের কৃষির জমির জন্য একটি কালভার্টের কথা বলেছিলেন ।আমি তাদের কথামতো ঐ কালভার্ট দ্রুতই করে দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং হয়ে যাবে। আপনাদের এলাকায় যদি এমন কোন সমস্যা হয়ে থাকে বা কিছু প্রয়োজন হলে আপনারা উপকৃত হবেন তা আমাকে বলবেন আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো কাজটির সমাধান করে দিতে।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা ও টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে “পার্টনার” প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথি এবং আপনাদের সবাইকে আমি স্বাগত জানাই। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। “পার্টনার” প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, নারী উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পরিবর্তন আসবে। তিনি প্রজেক্টর এর মাধ্যমে বন্দর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত উপ পরিচাক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. জহিরুল হক, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার বন্দর নূর-এ-কাউছার।
কৃষক কৃষাণী বক্তব্য রাখেন, রানি আক্তার, তাহমিনা আক্তার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বন্দর উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জनপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও কৃষক কৃষানীগন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...