মো. আনোয়ারুল হক: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দী এলাকায় মামার বাসায় বেড়াতে এসে মামার ঘরের আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাগিনা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
পিয়ার ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মো. মকবুল হোসেনের (৬৫) বাড়ীতে ভাগিনা ও ভাগিনার বউ বেড়াতে এসে এই ঘটনা ঘটিছে বলে ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন (৬৫) বাদী হয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বরবাদ বাগী এলাকার মো. নাজমুল (২০) এবং তার স্ত্রী মোসা. মীম (১৬) বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মামা মো. মকবুল হোসেনের বাড়ীতে আসে। পরদিন ৩১ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ঘরের স্টিলের আলমারির ভিতর থেকে নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা এবং দুটি ব্যাগে রাখা সর্বমোট ৭ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নাজমুল ও তার স্ত্রী মীম। চুরির বিষয়টি গোপন রেখে সকাল ১০ টার দিকে ১ নং বিবাদী নাজমুল তার স্ত্রী মীমকে মামার বাসায় রেখে কৌশলে নিজের বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
নাজমুল চলে যাওয়ার পর গৃহকর্তার স্ত্রী ঘরের কেনাকাটার জন্য আলমারি খুললে ১টি ব্যাগের ভিতর থাকা সাড়ে চার হাজার টাকা ও কৌটায় রাখা স্বর্ণালংকার দেখতে না পেয়ে। গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ঘরে অবস্থানরত ভাগিনাবধূ মীমকে স্বর্ণা লঙ্কার ও টাকা র বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে মীম চুরির কথা স্বীকার করে।
এরপর গৃহকর্তা মীমকে নিজ জিম্মায় রেখে কুমিল্লার দেবিদ্বারে ১নং বিবাদী নাজমুলের পরিবারকে খবর দেন। খবর পেয়ে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ওইদিনই মকবুল হোসেনের বাসায় এসে নগদ চার হাজার টাকা এবং ২ ভরি স্বর্ণালংকার বুঝিয়ে দিয়ে যান। পরদিন ১ আগস্ট ভোরে গৃহকর্তার স্ত্রী আলমারি পুনরায় দেখতে গিয়ে দেখেন অন্য ব্যাগের ভিতরে থাকা আরও ৫ ভরি স্বর্ণালংকারও নাই। বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নাজমুলের বোনের জামাই মো. ইয়াসিনকে ফোনে অবহিত করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার সাথে সাথে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিবাদীদের বাড়ীতে যান। সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পান অভিযুক্ত নাজমুল ও মীম ঘর ছেড়ে চম্পট দিয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৩নং বিবাদী মো. কামাল (৪৫) ভুক্তভোগী পরিবার আসার খবর পেয়ে আগেভাগেই আসামী নাজমুল ও মীমকে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেন। উপরন্তু কামাল বাকি ৫ ভরি স্বর্ণ চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য, আমরা আমাদের কষ্টের উপার্জিত বাকি ৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং দোষীদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তি চাই।”
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...