এম,এ,আযম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলা স্থগিত বা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলার একটি সামাজিক সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে মেলা আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া, আয়োজক নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়াদি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু’র স্বাক্ষরিত এক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।
আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তারা।
আবেদনে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলা। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে জেলার মানুষ জীবনযাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে উল্লেখ করে আবেদনকারীরা বলেন, জেলার মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা নিশ্চিত করা। এমন বাস্তবতায় মেলা আয়োজন জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মেলায় স্থানীয় অর্থনীতি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। পাশাপাশি মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো:- প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলার অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং জেলার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষ বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই সময়ে মেলার চেয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”
মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন,“কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাও আমাদের লক্ষ্য। আগামী ২০ জুনের মধ্যে মেলার আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। মেলা পরিচালনাকারীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়া বা কোনো ধরনের আর্থিক ভাগাভাগির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেলার সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।”
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...