পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে প্রবেশের পর হাতের ডান পাশে, গেট থেকে আনুমানিক ১০০ ফুট দূরে রাজশাহী-ঢাকা বাস কাউন্টারের সংলগ্ন একটি পুরোনো যাত্রী ছাউনি ছিল। বর্তমানে ওই সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশের প্রায় ৬০ টিরও বেশি জেলায় এই বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস চলাচল করে। ভোর ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এখানে যাত্রীদের ব্যাপক সমাগম থাকে।
একসময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি কক্ষসহ যাত্রী ছাউনি ছিল। পরবর্তীতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কারণে পুরোনো যাত্রী ছাউনিটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সেখানে নতুন করে কোনো যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, যাত্রী ছাউনির জন্য নির্ধারিত সরকারি জায়গার একটি অংশ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে নিজেদের ব্যবহারের জন্য ঘর ও দোকান নির্মাণ করেন। ফলে বর্তমানে যাত্রীদের বসার কিংবা বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বাসের অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করুক। একই সঙ্গে পূর্বের স্থানে অথবা উপযুক্ত সরকারি জায়গায় নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সুবিধাসহ একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হোক।
পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতঃ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে অচিরেই যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়রা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...