বন্দর প্রতিনিধি: ১৯ এপ্রিল রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় সাংবাদিকের পরিবারের বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার উপজেলার আদমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদমপুর এলাকার ১নং বিবাদী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় যুবক মো. হাসান (৩৫) মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এরপর
গত ১৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন ৩নং মাছ ঘাট এলাকায় হাসানকে একা পেয়ে বিবাদীরা এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও জখম করে। হামলার পর একই দিন বিকেল ৪টার দিকে ১০/১২ জন মিলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র (রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল) নিয়ে আদমপুরস্থ হাসানের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আলমারিতে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা ও প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলা চলাকালীন হাসানকে বাঁচাতে তার ভাই মো. রাসেল ও মর্জিনা বেগম (৪৫) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে রাসেলের বাম হাত এবং মর্জিনা বেগমের ডান হাত চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তারা বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১নং বিবাদী কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা এবং ২নং বিবাদী একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা। তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনার সময় স্থানীয়রা ভয়ে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আঁখি বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...