মো. আবু কাওছার মিঠু রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক ও লাভজনক কৃষির প্রসারে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’(পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় জাঁকজমকপূর্ণ ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে
উপজেলা কৃষি অফিসার আফরোজা সুলতানা’র সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর মো. আহসান শহীদ সরকার।
প্রধান অতিথি বলেন, আমরা যদি উত্তম কৃষি চর্চা নিশ্চিত করতে পারি, তবে একদিকে যেমন দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এই পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর ডলার আয় করতে পারব। গত বছর আলু বা পেঁয়াজের সঠিক দাম না পাওয়া কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। কিন্তু রপ্তানিমুখী বাজার তৈরি করতে পারলে কৃষকরা তাদের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং নদীর পানির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ কাজ পরিচালনা করতে হবে। সরকারের খাল খনন কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
সভায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির দিকে মনোযোগী হতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্মার্ট এগ্রিকালচারের কোনো বিকল্প নেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আফরোজা সুলতানা বলেন, সরকারের এই পার্টনার প্রকল্পের বার্তা সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব। আমরা যারা সরকারি কর্মকর্তারা আছি, তারা জনগণের তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম। তাই আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন, তবে সরকারের এই মহতী প্রচেষ্টা সফল হওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ হচ্ছে কৃষিপ্রধান দেশ, এখানে কৃষিকে এড়িয়ে কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। আপনারা দেখেছেন দিনে দিনে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু কৃষির এমন অনেক খাত আছে যেখানে আমরা চাইলে এখনও উন্নতি করতে পারি। রূপগঞ্জের কৃষিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের অবশ্যই রপ্তানিমুখী হতে হবে এবং কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই রূপগঞ্জের কৃষিতে প্রকৃত উন্নয়ন আসবে।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আফরিন আক্তার ফারিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রাফিয়া আক্তার রিমু, এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা পিএফএস ও নন-পিএফএস কৃষকবৃন্দ ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
উন্মুক্ত আলোচনায় কৃষকরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...