হাজী মহসিন দেওয়ান: শহর ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত কদম রসুল সেতুর নির্মাণ কাজের জটিলতা দূরীকরণ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে বন্দর ও শহরের মধ্যকার বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে বন্দর উন্নয়ন ফোরাম (বউফো) উদ্যোগে নারায়গঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
১১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নিকট এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
কোন অবস্থাতেই কদম রসূল সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হবে না বলে আশ্বস্ত করে নাসিক প্রশাসক বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে বউফো’র নেতৃবৃন্দকে জানান।
আলাদা আলাদা প্রদান করা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বন্দরের প্রায় ছয় লাখ লোকের প্রাণের দাবির উপর গুরুত্ব দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে যে কদম রসুল সেতু নির্মাণাধীন তার জন্য বন্দরবাসী এই প্রতিষ্ঠানের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
যুগ যুগ ধরে বন্দরবাসীর হৃদয়ের লালিত স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের প্রায় তিন থেকে চার লাখ লোকের যাতায়াতের পথ সুগম হবে।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, শীতলক্ষা নদীর পূর্বপাড়ের পাইলিং কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পশ্চিমপাড়ের পাইলিংয়ের কাজও প্রায় শেষ। খুব দ্রুতই সেতুর অ্যাপরোচ সড়কের পাইলিং কাজ শুরু করার কথা।
তবে শহরের সিরাজউদ্দৌলার সড়কের পাশের কদম রসূল সেতুর ব্যবহারের জন্য রেলওয়ের জমি সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় সেতুর নির্মাণ কাজে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যা শহর ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে কিছু সুবিধাবাদী মহল বিভিন্ন অযৌক্তিক ও খোঁড়া যুক্তি দিয়ে ভুঁইফোড় সংগঠনের নাম করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যে তথ্যের মাধ্যমে রেলওয়ের এই জায়গা দখলে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
কিছু মানুষ কদম রসুল সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা বন্দরের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শণের চেষ্টা করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুযোগ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করার মাধ্যমে এই চক্রটি বিভিন্ন অপচেষ্টার মাধ্যমে শহর ও বন্দরের একাধিক উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করেছে বলেও অভিযোগ আছে।
একই সাথে বিগত সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা মেয়র কর্তৃক অর্পিত নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরবাসীর মধ্যে থাকা চলমান আবাসন কর (হোল্ডিং ট্যাক্স) এ থাকা বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়। চলামন আবাসন কর প্রদানের প্রক্রিয়ায় শহরের তুলনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকার মূল্যায়ন কর দ্বিগুণ বলে বন্দরবাসীর পক্ষ হতে উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শহর ও বন্দরের প্রায় ২০ লাখ লোকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত হতে যাওয়া কদম রসূল সেতুর কাজকে চলমান ও গতিশীল করার জন্য এবং শহর ও বন্দর এলাকার কর বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে নাসিক প্রশাসক যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এই বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হয়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...