মো. কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: থানায় অভিযোগের ১৯ দিন পার হলেও নেই অভিযোগের কোন অগ্রগতি মোটা অংকের টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা’র অভিযোগ কতিপয় রাজনৈতিক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। যশোর মণিরামপুরের মনোহরপুরে এক কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব, অপহরণ, হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের পরে হাত পা ও মুখ বেধে ভুক্তভোগীর গোয়াল ঘরে ফেলে দিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগটি কি তদন্তের আড়ালে পড়ে আছে, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে!
মণিরামপুর উপজেলার মনোহারপুর দক্ষিণ আলী এলাকার এক কিশোরীর লিখিত অভিযোগে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে এ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ওই কিশোরী উল্লেখ করেছে, একই এলাকার মামুন মোল্ল্যার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে সে প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পর অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ খোঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকে। গত ২৭ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কিশোরীর বাড়ির কাছে গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে বের হতে বলে এবং বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইল করতে থাকে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী বাইরে আসার পর তাকে পেছন থেকে জোরপূর্বক ধরে তার পরনের ওড়না দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে অভিযুক্ত তৌহিদুলের বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ।
পরবর্তীতে ওই কিশোরীকে ধর্ষক তৌহিদুল হাত-পা ও মুখ বেঁধে ভুক্তভোগীর গোয়ালঘরে ফেলে রেখে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্ত ধর্ষক।
পরে কিশোরীর দাদি তাকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলে জানাগেছে ।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় ৩০ জুন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ অলক বিশ্বাস জানান, ঘটনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত পরিবারকে একাধিকবার বলা হয়েছে। বিষয়টি ভুক্তভোগী মেয়ের জন্মনিবন্ধন নিয়ে এসে এজাহার দায়ের করার জন্য কিন্তু সে বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কর্ণপাত করেনি, বরং স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছে।
সূত্র বলছে পাঁচ নেতার গেড়াকলে আটকে আছে বিষয়টি। মেয়ে পক্ষের দাবি পাঁচ লাখ টাকা কিন্তু ছেলেপক্ষ দিতে চাইছে একলাখ টাকা। এ নিয়ে ঘটনায় মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া পাঁচ নেতার মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এবং এই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে অন্যদিকে অভিযোগ দেওয়ার পর হঠাৎ করে কিশোরীর পরিবার নীরব হয়ে গেছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি করছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, আমি অভিযোগ দেওয়ার পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কোন সহায়তা বা পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। স্থানীয় মাতুব্বররা আমাদের হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ছাদিয়া সুলতানা সুমির মা’ জানান, অভিযোগ করার পর স্থানীয় নেতারা আমাদের অভিযোগ তুলে আনতে অনেক চাপ সৃষ্টি করছে, আমরা গরীব অসহায় মানুষ ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিনা।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ বলেন, আদো ওই রকম ঘটনা ঘটেছে কি না আমার জানা নেই, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ওই ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার যশোর সৈয়দ রফিকুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগের কপিটা আমাকে একটু দেন, আমি মনিরামপুর থানার ওসির সাথে কথা বলি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...