বিশেষ প্রতিনিধি : বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমুল। তিনি সৌদি আরবে নাজমুল সাপ্লাই নামে পরিচিত।
অনেক প্রবাসি শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন নাজমুল সাপ্লাই সৌদি আরবে কাজ দেয়ার কথা বলে তার সাপ্লাই কোম্পানিতে শত শত শ্রমিক নিয়োগ করে। প্রবাসীরাও দিনের পর দিন মাসের পর মাস কাজ না পেয়ে টাকা কামানোর আশায় তার সাপ্লাইতে ঢুকে পড়ে। তীব্র গরমে রোদে পুরে শরিরের ঘাম ঝরিয়ে মাসের পর মাস কাজ করে যায় অসহায় প্রবাসি।
নাজমুলের আরেক ভাগিনা নাঈম। নাজমুলের টাকা পয়সা রক্ষনা বেক্ষনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। এই দায়িত্ব পেয়ে নাঈম শুরু করে কিভাবে মানুষের টাকা আত্মসাত করা যায়। কোন উপায়ে কার টাকা না দিয়ে পারা যায়। এই চিন্তা তার মাথায় ঘুরতে থাকে। প্রথমত ১ মাস ২০ দিন পর বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী ২ মাস ২০ দিন পরও সেলারির কোন হদিস পাওয়া যায় না।
কাজ করার কয়েকমাস পর মানুষকে রিলিজ করে ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। টাকা না নিয়ে যাওয়ার অস্বীকৃতি জানালে তারা সিকিউরিটি ডেকে জোর করে বের করে দেয়। বলে বিল পাস হইলে বেতন এসে নিয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসতে হয় ভুক্তভোগী প্রবাসি শ্রমিকদের ।
এরপর চলে যায় দিনের পর দিন মাসের পর মাস। নাজমুলকে ফোন দিলে ধরেনা, নাঈম ফোন ধরলে বলে টাকা এখনও আসেনাই। তারপর নাম্বার ব্লক করে দেয়। এইভাবে চলতে থাকে তাদের নাটক।
প্রায় তিনশো জন শ্রমিক টাকা পায়। দৈনিক প্রায় ১২০ রিয়েল হাজিরা। জন প্রতি (১২০×২৬ দিন)= ৩১২০ রিয়েল মাসিক । ১ মাসের সেলারি হয় (৩১২০×৩০০ জন ) ৯৩৬০০০ (নয় লক্ষ ছত্রিশ হাজার রিয়েল)। যার বাংলা টাকায় রুপান্তর করলে দাড়ায় প্রায় তিন কোটি টাকা। কেউ কেউ ২/৩ মাসেরও সেলারিও পায়।
প্রবাসীরা এখন নিরুপায় কার কাছে যাবে কি করবে? ইকামার মেয়াদ না থাকায় পারছেনা পুলিশের কাছে যেতে না পারছে কোন আইনের কাছে যেতে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগায় নাজমুল ও তার ভাগিনা নাঈম।
প্রবাসিদের আরও অভিযোগ
কিছু কিছু শ্রমিক ফেসবুকে তাদের কু – কর্মের কথা প্রকাশ করলে তা দেখে নাঈম তাদের হুমকি প্রদান করে। এবং যেখানে তাদের পাবে সেখানেই তাদের মারধর করবে।
নাজমুল বিদেশে প্রবাসীদের টাকা মেরে দেশে নিজ এলাকায় গরিব, দুখি মসজিদ, মাদ্রাসায় দান করার মতো খবর পাওয়া যায়। এমনকি নাজমুল ইউপি নির্বাচন করবে এমন খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যের হক মেরে নাজমুল এখন কোটিপতি। কারো হক মেরে দান করলে সেই দান আল্লাহর দরবারে কখনও কবুল হওয়ার নয়। আর কোন শ্রমিকের ঘাম ঝড়ানো টাকা মেরে দিলে তার বিচার দুনিয়াতেও হবে আখেরাতেও হবে। আল্লাহ ছাড় দিবেন কিন্তু ছেড়ে দিবেন না।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...